প্রশ্ন: إحتكار ইহতিকার কি? تلقی তালাক্কী কি? تلقی তালাক্কীর হুকুম কি? কোন কোন দ্রব্য গুদামজাত করা বৈধ এবং কোন কোন দ্রব্য গুদামজাত করা বৈধ নয় - 23 January 2012 - Blog - Alormela
Home » 2012 » January » 23 » প্রশ্ন: إحتكار ইহতিকার কি? تلقی তালাক্কী কি? تلقی তালাক্কীর হুকুম কি? কোন কোন দ্রব্য গুদামজাত করা বৈধ এবং কোন কোন দ্রব্য গুদামজাত করা বৈধ নয়
10:08 PM
প্রশ্ন: إحتكار ইহতিকার কি? تلقی তালাক্কী কি? تلقی তালাক্কীর হুকুম কি? কোন কোন দ্রব্য গুদামজাত করা বৈধ এবং কোন কোন দ্রব্য গুদামজাত করা বৈধ নয়

প্রশ্ন: إحتكار ইহতিকার কি? تلقی তালাক্কী কি? تلقی তালাক্কীর হুকুম কি? কোন কোন দ্রব্য গুদামজাত করা বৈধ এবং কোন কোন দ্রব্য গুদামজাত করা বৈধ নয়। إحتكار ইহতিকারের হুকুম বিভিন্ন দলিল সহ বর্ণনা কর।

 

উত্তর:                                               

ভূমিকা: দৈনন্দিন জীবনে লেনদেন ক্রয়বিক্রয় আমাদের নিত্যদিনের সাথী। ব্যাবসায়ীরা কখনো কখনো অন্যস্থান থেকে মালামাল কিনে এনে শহরে বা কোন একটি স্থানে বিক্রি করে থাকে। কারো কারো আবার গুদামজাত করে রাখতে হয়। গুদামজাত করণের কয়েকটি পর্যায় রয়েছে। কখনো কখনো গুদমজাত করা বৈধ আবার কখনো কখনো এটা মাকরুহ কিংবা অবৈধ হতে পারে। এ প্রকৃয়ার নাম إحتكار ইহতেকার। إحتكار ইহতিকার ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা শুধু মাত্র ব্যাবসায়ীদের সাথেই নয় এর সুদুর প্রসারী প্রভাব জড়িয়ে আছে সাধারন জনগণ  এবং ক্রেতাদের সাথে। আর এ কারনেই إحتكار ইহতেকার নিয়ে বিভিন্ন মাযহাবের লোকের মধ্যে বিভিন্ন মতামত পরিব্যাপ্ত হয়েছে। إحتكار ইহতেকার শব্দের অর্থ আটক রাখা। কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্য ,কাপড় বা অন্য কোন প্রয়োজনীয় জিনিষ গুদামজাত করে রাখার নামই ইহতেকার। إحتكار ইহকারের জন্য নির্দিষ্ট বিধি বিধান রয়েছে। নিম্নে প্রশ্নালোকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা উপস্থাপন করা হলো।

 

إحتكار ইহতেকারের সংজ্ঞা:

আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইহতেকার إحتكار শব্দের অর্থ বিরত রাখা,আটক রাখা,বন্ধ করে দেয়া ইত্যাদি।

দেওয়ানুল আদাব গ্রন্থে إحتكار এর পারিভাষিক সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে,পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে إحتكار ইহতিকার হলো চড়া মূল্যে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্য এবং তদরুপ কোন কিছু গুদামজাত করে রাখা।  কারো কারো মতে  إحتكار হল এমন একটি বিষয় যা গুদামজাত করনের সাথে সংশ্লিষ্ট। মানুষের খাদ্যদ্রব্য যথা গম,যব,চাউল ইত্যাদি এবং চতুষ্পদ জন্তুর খাদ্যদ্রব্য যেমন ভূষি,শুকনা বা কাচা  ঘাস ইত্যাদি মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সময় মত বিক্রি না করে গুদামজাত করে রাখার নাম إحتكار ইহতেকার।

 

تلقی তালাক্কীর সংজ্ঞা:

আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে تلقی অর্থ এগিয়ে যাওয়া বা অগ্রসরমান হয়ে কিছু করা।

পারিভাষিক ভাবে বলতে গেলে ইমাম কুদুরীর বক্তব্য ধরে বলা যায় বহিরাগত ব্যাবসায়ীদের আগমনের সংবাদ পেয়ে তারা শহরে প্রবেশ করা আগেই তাদের কাছ থেকে মালামাল কিনে নেওয়ার নামই تلقی । এতে করে দেখা যায় বহিরাগত ব্যাবসায়ীরা শহরের দ্রব্য মূল্য সম্পর্কে না জেনেই তাদের পন্য বিক্রি করে দেয়।

 

تلقی এর হুকুম:

ইহতেকার আর تلقی এর হুকুম প্রায় একই। নগর বাসীর কোন ক্ষতি না হলে এবং যদি বিক্রেতা তথা বহিরাগত ব্যাবসায়ীদের কাছে শহরের পন্যসামগ্রীর বর্তমান দাম লুকিয়ে না রেখে দ্রব্যসামগ্রী কেনা হয় তাহলে সেটা বৈধ। তবে হ্যা যদি এমন হয় যে বহিরাগত ব্যাবসায়ীদের কাছে শহরের বর্তমান দাম গোপন রাখা হয়েছে তাহলে تلقی বা অগ্রসর হয়ে ক্রয় করা বৈধ হবেনা। এ ছাড়াও আর যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হলো বহিরাগত ব্যাবসায়ীর কাছে বর্তমান বাজার দর যদি উল্লেখ করা হয় কিন্তু সেই দ্রব্যসামগ্রী কিনে শহরে চড়া দামে বিক্রি উদ্দেশ্য হয় তাহলেও تلقی বৈধ হবেনা। রাসূল (সা:) ঘোষনা করেছেন, "শহর থেকে এগিয়ে গিয়ে পথিমধ্যে আগন্তুকের নিকট থেকে কোন কিছু ক্রয় করোনা এবং বহিরাগত ব্যাবসায়ীদের কাফেলার সাথে এগিয়ে গিয়ে একচেটিয়া মাল ক্রয় করোনা।

 

যে সকল জিনিষ إحتكار ইহতেকার করা হয়:

সাধারণত ইমামদের মতে إحتكار ইহতিকারের আওতায় আনা হয়েছে মানুষের খাদ্যদ্রব্য এবং চতুষ্পদ জন্তুর খাদ্য দ্রব্য। তবে কারো কারো মতে সেটা পোষাক পরিচ্ছদেও আওতাভুক্ত।ইহতেকার করা হয় ধান,গম,যব,ভূট্টা,ভূষি,খৈল,ঘাস ইত্যাদি বিষয়কে।

 

إحتكار ইহতিকারের হুকুম:

কখনো কখনো ইহতিকার إحتكار হারাম হবে আবার কখনো কখনো إحتكار মাকরুহ হবে। আবার এটাও বলে রাখা ভাল যে সব সময় إحتكار ইহতেকার হারাম বা মাকরুহ এর পর্যায়ে পড়েনা। কখনো কখনো ইহতেকার বৈধ। অর্থাৎ কখনো কখনো ইহকার বা গুদামজাত করে রাখা বৈধ। নিম্নে এ বিষয়ে বিভিন্ন ইমামদের মতবাদ তুলে ধরা হলো-

  • ইমাম আবু ইউসুফ (র:) বলেছেন,যে কোন কিছুই যা গুদামজাত করলে জনগণের ক্ষতি হয় তাই إحتكار হিসেবে গণ্য হবে। যদিও তা স্বর্ণ রৌপ্য বা কাপড় হোকনা কেন। মূলত আবু ইউসুফ প্রকৃত ক্ষতির দিক বিবেচনা করে এ কথা বলেছেন।
  • অপর দিকে ইমাম আবু হানিফা প্রকৃত এবং নির্দিষ্ট ক্ষতির দিক বিবেচনা করেছেন। তিনি বলেন ,গুদামজাত করণের মেয়াদ স্বল্প হলে তা إحتكار হিসেবে গণ্য হবেনা। কেননা এতে কারো কোন ক্ষতি নেই। আর গুদামজাত করণ দীর্ঘমেয়াদী হলে সেটা إحتكار হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সেটা মাকরুহ হবে। এই দীর্ঘতার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪০ দিন। কেননা নবী করীম (সা:) বলেছেন যেই ব্যক্তি ৪০ রাত ও দিন খাদ্যদ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গুদামজাত করে রাখবে সে আল্লাহর হেফাজত হতে বাহির হয়ে যাবে।আর আল্লাহ তার উপর থেকে তার জিম্মাদারিত্ব তুলে নেবেন।
  • ইমাম মোহাম্মদ (র:) বলেছেন কাপড়ের মধ্যে إحتكار নাই। অর্থাৎ কাপড় গুদামজাত করলে তা إحتكار হিসেবে গণ্য হবেনা।
  • ইমাম কুদুরী (র:) বলেন,মানুষ এবং চতুষ্পদ জন্তুর খাদ্য দ্রব্য মজুদ করে রাখা মাকরুহ। আর এটা তখনই হবে যখন কোন শহরে গুদামজাত করা হলে সেখানকার নাগরিকের অসুবিধা হয় বা কষ্ট ভোগ করতে হয়। এ সম্পর্কে রসূল (সা:) এর স্পষ্ট হাদীস রয়েছে ‘আমদানীকারক রিযিক প্রাপ্ত এবং গুদামজাতকারী অভিশপ্ত ’
  • আর এ জন্য খাদ্যদ্রব্যের সাথে জনসাধারনের অধিকার বাতিল করা হয় এবং জনগণের জীবনযাত্রায় সংকট সৃষ্টি করা হয়। আর তাই এটা যদি জনগণের জন্য ক্ষতিকর হয় তাহলে إحتكار মাকরুহ হবে। এটা যেমন ছোট শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তেমনি বড় শহর হলে যদি গুদামজাত করায় কারো কোন ক্ষতি না হয় সেক্ষেত্রে إحتكار করা বৈধ হবে।
  •  ফকীহ আবুল্লাইছ (র:) বলেন, "খাদ্য আমদানী কারকের রোজগারে বরকত হওয়ার কারণ সে দূরের এলাকা থেকে মালামাল ক্রয় করে শহরে নিয়ে আসে এবং অনেক মানুষ সেটাতে উপকার লাভ করে।আর তাই জনগণের দোয়ার বরকতে আল্লাহ তায়ালা তার রিজিক বৃদ্ধি করে দেন। অপরদিকে যে খাদ্য মজুদ করে রাখে সে জনগণের শত্রু,তার কারণে খাদ্যের এমনকি বাজারের উপর এক ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় ফলে জনগণ সমস্যার মধ্যে পড়ে যায়। আর তাই লোকে তাকে অভিষাপ দেয়। ”
  • إحتكار বা গুদামজাত করণ মাকরুহ হওয়ার আকলী দলীল হলো মজুদকারী যা মজুদ করে তার সাথে জনগণের অধিকার জড়িত। আর জনগণকে তা ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করতে বঞ্চিত করায় তাদের অধিকার খর্ব করা হয় এবং এর উপর সংকট সৃষ্টি করে। সুতরাং এই ক্ষতির দিক বিবেচনা করে এটিকে মাকরুহ করা হয়েছে।
  • আর গুদামজাত করণ দ্বারা সংকট সৃষ্টি,দুর্ভিক্ষ কামনা কিংবা মূল্য বৃদ্ধির আশা করলে তা চরম গুনাহের অর্ন্তভূক্ত হবে। আমাদের উচিত এ বিষয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।

 

যে সকল জিনিষ গুদামজাত করা মাকরুহ হবে:

কোন কোন দ্রব্য গুদামজাত করা মাকরুহ হবে এই ব্যাপারে হানাফী ইমামগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফার মতে যেই সব দ্রব্য মানুষ অথবা চতুষ্পদ জন্তুর খাদ্য হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে এগুলো গুদামজাত করা মাকরুহের অর্ন্তভূক্ত হবে। কাফী গ্রন্থে ইমাম মোহাম্মদ (র:) এর মাযাবে একই মতামত পেশ করা হয়েছে। ইমাম মোহাম্মদ বলেছেন কোন কোন স্থানে ধান চাউলের ক্ষেত্রে এ নীতি প্রযোজ্য হবেনা । যে সকল স্থানে ধান চাউল প্রধান খাদ্য নয় সেখানে এগুলো গুদামজাত করলে কারো কোন ক্ষতি হয়না বলে সে সকল স্থানে এটা করা মাকরুহ নয়।

 

মজুদকারী নিজে শহরের বাইরে থেকে দ্রব্য ক্রয় করে মজুদ করলে তার বিধান:

 

* ইমাম কুদুরী (র:) এর মতে   কোন ব্যক্তি নিজের জমিতে আবাদকৃত ফসল মজুদ করলে কিংবা অন্য শহর থেকে নিজে নিয়ে আসলে তা মাকরুহ হবেনা। আর এটাকে إحتكار  বলে গণ্য করা হবেনা।

 এর প্রথমটির কারন হল এটা একান্ত তার হক,কাজেই এটার সাথে জনসাধারণের হক সংশ্লিষ্ট নয়। কেননা তার জমিতে ফসল করা না করা তার দুটোরই অধিকার আছে। সুতরাং তার ফসল সে বিক্রি না করার অধিকার রাখে।

  • আর দ্বিতীয়টি হলো ইমাম আবু হানিফার মাযহাব। কেননা সাধারনের অধিকার তো ঐ খাদ্য দ্রব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট যা শহরে জমা আছে। এবং পুর্বে শহরে আনা হয়েছে।
  • ইমাম আবু ইউসুফ (র:) বলেন নিজের জমির ফসল হোক বা নিজে অন্য শহর হতে এনে মজুদ করুকনা কেন দুটোই মাকরুহ হবে।
  • ইমাম মাহাম্মদ (র:) বলেন যেখান থেকে মালামাল শহরে আনা হয় সেটা শহর তলী বলে গণ্য হবে। সেই স্থানে গুদামজাত করণ হারাম হিসেবে গণ্য হবে। কেননা এটার সাথে জনগনের সার্থ জড়িত। তবে হ্যা যে শহর থেকে মালামাল আনা হয়েছে সেটা যদি এতটাই দূরে হয় যে এই শহরের জনগণ সেখান থেকে মালামা আনতে সম্ভবপর না হয় তখন এটা জায়েজ বলে গণ্য হবে।

 

 

 

تلقی মাকরুহ হওয়ার সময়:

تلقی অর্থাৎ শহর থেকে অগ্রসর হয়ে দ্রব্য ক্রয় তখনই মাকরুহ হবে যখন এর দ্বারা নগরবাসী ন্যায্য মুল্যে দ্রব্যটি কেনা থেকে বঞ্চিত হবে। আর যদি তাদের ক্ষতি না হয় তবে তা মাকরুহ হবেনা। 

 

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায় যে সাধারণ ভাবে লাভের আশায় কোন দ্রব্য গুদামজাত করে রাখলে সেটাকে إحتكار এর মধ্যে ধরা হবে। আর যদি সেটা করার পরও কারো কোন ক্ষতি না হয় তাহলে সেটাতে إحتكار বলে ধরা হবেনা। তেমনি ভাবে  تلقی এর ক্ষেত্রে বিধান একই থাকবে। ক্ষতির দিক বিবেচনা করে তবেই সেটা জায়েজ কিংবা অবৈধ ঘোষণা করা হবে।

সর্বপরি আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন জণসাধারণের কোন ক্ষতি না হয়। আল্লাহর বিধানাবলি মেনে ব্যাবসা করাই উত্তম পন্থা।

 

 

জাহিদ হাসান

এসএম হল

ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়

এম.এ ২০০৯-২০১০

chotoderbondhu@gmail.com

www.alormela.ucoz.com

www.alormela-alormela.blogspot.com

www.facebook.com/zazafee

www.chotoderbondhu.page4.me

01723001225

Category: Computer | Views: 266 | Added by: zazafee | Rating: 0.0/0
Total comments: 0
Name *:
Email *:
Code *: