Home » 2011 » January » 6 » Zainul Abedin Shilpa charjo
7:26 PM
Zainul Abedin Shilpa charjo

জয়লুন আবেদিন আমাদের কাছে পরিচিত নাম।তার জন্ম ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর। ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জের কেন্দুয়ায়। বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ, মা জয়নাবুন্নেছা। তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন দারোগা। নয় ভাই—বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পিতা-মাতার বড় সন্তান।খুব ছোট বেলা থেকেই জয়নুল ছবি আঁকা পছন্দ করতেন। পাখির বাসা, পাখি, মাছ, গরু-ছাগল, ফুল-ফলসহ আরো কত কি এঁকে মা-বাবাকে দেখাতেন। ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয় স্কুলে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠানিক পড়াশুনা।নদী ছিল তাঁর খুব প্রিয়। তিনি নদীকে ভালবেসে বলতেনঃ নদীই আমার শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক।ছোট বেলা থেকে প্রবল ইচ্ছা ছিল কলকাতায় গিয়ে শিল্পকলা শেখার।অবশেষে ম্যাট্রিক পরীক্ষার আগে মৃত্যুঞ্জয় স্কুলের পড়াশুনা ইস্তফা দিয়ে ১৯৩৩ সালে জয়নুল ভর্তি হন কলাকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে। এখানে তিনি ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত আর্টের উপরে পড়াশুনা করেন। ওই বছর কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং এ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।১৯৩৮ সালে কলকাতায় জাতীয় চিত্র প্রদর্শনীতে ৬ টি জলরঙ চিত্রের জন্য গভর্ণর স্বর্ণপদক লাভ করেন।
১।জয়লুন আবেদিন


২।স্ত্রী জাহানারা আবেদিন সহ তিনি



৩।মা ও তিনি



৪।বি বি সি অনুষ্ঠানে



৫।শিল্পচর্চায়


১৯৪২-৪৩ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। এই সময় ইংরেজ শাসকদের অবহেলার কারণে সারা বাংলায় দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়। গ্রাম-বাংলার আনাহারী মানুষ খাবারের জন্য ছুটছে কলকাতার দিকে। ওলিতে-গলিতে, রাজপথে-ফুটপথে অগনিত মানুষ ক্ষুধার তাড়নায়-যন্ত্রণায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। কাক ও কুকুরের সঙ্গে বুভুক্ষু মানুষ অখাদ্য-কুখাদ্য খুঁজে ফিরছে ডাস্টবিনে- নর্দমায়।জয়নুল আবেদিন দৃষ্টির ক্যামেরায় তুলে নিলেন_এ সকল মর্মান্তিক দৃশ্য। দিনরাত ঘুরে ঘুরে তিনি আঁকলেন দুর্ভিক্ষ বিষয়ে অনেক ছবি ও স্কেচ।নিচে কিছু দুর্ভিক্ষের ছবি দিলামঃ
১।


২।



৩।



৪।



৫।



৬।



৭।



৮।



৯।



১০।


শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিচালিত একটি সংগ্রহশালা যেখানে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্মসমূহ সংরক্ষিত আছে। শহরের উত্তর প্রান্তে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এটি অবস্থিত। ১৯৭৫ সালের ১৫ এপ্রিল তারিখে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন।একটি দোতলা ভবনবিশিষ্ট যে জমিতে এটি অবস্থিত তার মোট আয়তন হচ্ছে ৩.৬৯ একর।
এই সংগ্রহশালায় প্রথমে ৭০ টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছিল যার বেশিরভাগই ছিল তৈলচিত্র। এর মাঝে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্য আছে: বিভিন্ন দেশ ভ্রমনকালে শিল্পাচার্যের অঙ্কিত ছবি, গুণটানা, নদী পারাপারের অপেক্ষায় পিতা-পুত্র এবং দুর্ভিক্ষ। এখান ১৭ টি অতি আকর্ষণীয় ছবি ১৯৮২ সালে চুরি হয়ে যায়। এর মধ্যে ১০ টি ছবি ১৯৯৪ সালে আবার উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাই এখানে মোট ৫৩ টি চিত্রকর্ম রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে শিল্পাচার্যের ব্যবহৃত জিনিস এবং তার কিছু স্থিরচিত্র। স্থিরচিত্রগুলো ভবনের দোতলার বারান্দায় শোভা পায়।গ্যালারি অনুসারে ভাগ করে উল্লেখ করা আছে।তার উল্লেখযোগ্য কিছু ছবি নিন্মে দেয়া হলঃ

১।অপেক্ষা




২।সাওতাল




৩।বিয়ের কনে




৪।বৃদ্ধ




৫।গোছল



৬।গাছ




৭।ঝড়




৮।নদী ও নৌকা



১৯৫৯ সালে জয়নুল আবেদিন পাকিস্তানের সর্বশ্রেষ্ট সম্মান ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ফিলিস্তিনি যুদ্ধে যোদ্ধাদের আমন্ত্রনে সে দেশে যান। উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো যুদ্ধের মর্মান্তিক ছবি সংগ্রহ করা। ১৯৭০ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে আর্ট কলেজে ‘নবান্ন’ শীর্ষক এক বিশাল প্রদর্শনীর আয়োজন করে। জননেতা মাওলানা ভাসানীর সাথে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় ভাষণও দিয়েছেন তিনি। ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমীর সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর অন্যতম উপদেষ্টা মনোনীত হন। ওই বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়াস্থ ‘কংগ্রেস ফর ওয়ার্ল্ড ইউনিটি’র সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। ওই বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মান সূচক ডি-লিট উপাধীতে ভূষিত করে। আমৃত্যু তিনি সম্মানের সাথে এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

মাত্র ৬২ বছর বয়সেই ১৯৭৬ সালের ২৮ মে তিনি মারা যান
Views: 830 | Added by: zazafee | Rating: 0.0/0
Total comments: 1
1 Md. Alam  
0
I like that
tomi sara jibon amader moner patay srity hoye thakbe.........................

Name *:
Email *:
Code *: